বুধবার   ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ১৪ ১৪২৬   ০২ রজব ১৪৪১

২২

মির্জা ফখরুলকে অপসারণ করতে বাড়ছে চাপ, হতাশ ও ক্ষুব্ধ তারেক!

ডেস্ক নিউজ

প্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

সদ্য সমাপ্ত ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর এবার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাসের দু’বছর পূর্তিতে বিএনপির সমাবেশ ও অন্যান্য কর্মসূচিতে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি। বিএনপির এই দলগত ব্যর্থতায় মহাসচিব মির্জা ফখরুলের উপর চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বেগম জিয়ার মুক্তির আন্দোলনকে কেবলমাত্র নয়াপল্টন পার্টি অফিসে সীমাবদ্ধ করায় মির্জা ফখরুলের উপর চরম চটেছেন বিএনপির পলাতক এই নেতা। এছাড়া বিএনপির সার্বিক রাজনৈতিক কার্যক্রমেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে দল ও নেতাদের প্রতি তারেক রহমানের ক্ষোভ ও হতাশার বিষয়ে জানা গেছে।

লন্ডনের কিংস্টনকেন্দ্রীক একটি গোপন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সদ্য সমাপ্ত সিটি নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ে দলের নীতিনির্ধারকদের উপর চরম ক্ষুব্ধ তারেক রহমান। কৌশল নির্ধারণ ও দলীয় ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে সিটি নির্বাচনে বিএনপির এমন লজ্জাজনক পরাজয় ঘটেছে বলে মনে করছেন বিএনপির এই কর্তা। তবে সিটি নির্বাচনের পরাজয়কে পুঁজি করে বিএনপি রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে- এমনটাই আশা করেছিলেন তারেক। কিন্তু শত নির্দেশনা দেয়ার পরও বিএনপি ঘুরে-ফিরে দলীয় কার্যক্রমকে নয়াপল্টনে আবদ্ধ করে ফেলায় মির্জা ফখরুলের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।

এদিকে লন্ডন ও ইউরোপ বিএনপিসহ দলটির বিভিন্ন দাতা সংস্থার মধ্যেও এখন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে যে, মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বের ব্যর্থতা, আন্দোলন জমানোর অনিচ্ছা, জেল-জরিমানাকে ভয় পাওয়া এবং নিজেকে সেফজোনে রাখার প্রবণতার কারণে বিএনপি আজ রাজপথবিমুখ দলে পরিণত হয়েছে। মূলত বিএনপির সামগ্রিক ব্যর্থতার জন্য মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক অনিচ্ছাকে দায়ী মনে করেন বিএনপির বিদেশি বন্ধু ও দাতা সংস্থাগুলো।

বিএনপিকে রক্ষা করতে হলে মির্জা ফখরুলকে অপসারণ করার জন্য তারেক রহমানের উপর চাপ বাড়ছে। আর এই চাপ তারেক রহমান কতক্ষণ সহ্য করবেন সেটিও বলা মুশকিল। তাই বিএনপিকে রক্ষা করতে হলে মির্জা ফখরুলকে মহাসচিব পদ থেকে অপসারণ করতেও তারেক শঙ্কাবোধ করবেন না বলে জানা গেছে। তবে মির্জা ফখরুলের বিকল্প নেতা খুঁজে বের করাটাও মুশকিল হবে বলে মনে করছেন তারেক।

এদিকে বিএনপির অভ্যন্তরীণ একটি সূত্র বলছে, তারেক রহমানের এমন সংকটকালীন আগাম সিদ্ধান্তের বিষয় আঁচ করতে পেরে শঙ্কায় পড়েছেন মির্জা ফখরুল। শেষ বয়সে অপবাদ নিয়ে দলীয় পদ হারালে সারাজীবনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বিতর্কিত হয়ে পড়বে বলেও মনে করছেন মির্জা ফখরুল।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ
এই বিভাগের আরো খবর