মঙ্গলবার   ০২ জুন ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ১৯ ১৪২৭   ১০ শাওয়াল ১৪৪১

৫৮৫

বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ জরুরী হয়ে পড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল ২০১৯  

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহর সংলগ্ন মহানন্দা নদীর উপর নির্মিত শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর বীরশ্রেষ্ঠ সেতু। তৃতীয় বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী এই সেতুটি অযত্নে দিন দিন স্থায়িত্ব ও সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে জীর্ণ হয়ে পড়েছে। সেতুর দুই পাড়ের দু’দিকের সিঁড়ির নিচের অংশে মাটি সরে গিয়ে সিঁড়িগুলো হুমকির মুখে পড়েছে। বারঘরিয়া অংশে এর ব্যাপকতা বেশি।

মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতু থেকে বারঘরিয়া মাঠে নামার জন্য সিঁড়ির শেষ প্রান্তের মাটি সরে গেছে। বৃষ্টির পানি নামার সাথে সাথে মাটি ক্ষয় হয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে হুমকির মুখে পড়েছে সিঁড়িটি। দ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন। সড়ক বিভাগ কর্তৃপক্ষের এসব দেখার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তাঁদের কোন উদ্যোগ নিতে দেখা যায় নি।

বারঘরিয়া কাজি পাড়ার আফজাল হোসেন জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ সেতুর কোন সংস্কার না হবার কারণে সেতুটির দু’দিকের লোহার রেলিং মরিচা ধরে ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া সেতুর উপরে প্রত্যেকটা বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে লাগানো বৈদ্যুতিক বোর্ডের ঢাকনা চুরি হয়ে যাবার ফলে খোলা অবস্থাতেই রয়েছে। 

আরেক এলাকাবাসী মুদি দোকানি আসমাউল জানান, বর্ষাকালে পুরো সেতুর উপর বৃষ্টির পানি নামার জন্য যে সব ছিদ্র করা আছে সেগুলোর বেশ কয়েকস্থানে ময়লা জমে বন্ধ হয়ে গেছে।

বারঘরিয়ার বাসিন্দা সাহেব আলী জানান, অতিরিক্ত পণ্য পরিবহনের কারণে ৪৪৮.৩০ মিটার সেতুটির উপর অসংখ্য ছোট বড় ফাটল ধরেছে। এঅবস্থায় জরুরী ভাবে সেতুটি মেরামতের উদ্যোগ নেবার আহবানও জানান কর্তৃপক্ষকে।

১৯৯০ সালের সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হলে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনামসজিদ স্থলবন্দরকে ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য শহরের সঙ্গে সংযোগ সাধণ করে এই সেতুটি। সেতুটি প্রতিষ্ঠাকালীন টার্গেট ধরা হয়েছিল ১০০ বছর স্থায়ী হবে। কিন্তু ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত চাপ নিয়ে যাববাহন চলাচল করার কারণে স্থায়িত্বকাল নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ২৫ থেকে ৩০টন ধারণ ক্ষমতা হলেও পাথর বহনকারী ট্রাক অনেক ক্ষেত্রেই ৪০ থেকে ৫০ টন পাথর নিয়ে চলাচল করছে।

স্থানীয়রা জানায়, আগে পাথর বোঝাই ট্রাক পার হলে সামান্য সেতু দুলত কিন্তু বর্তমানে অতিরিক্ত ভার বহন ট্রাক বা যাত্রীবাহি বাস সেতুর উপর উঠলে আগের চেয়ে অনেক বেশি দোল খায়। এরফলে সেতুর পিলারের উপর যে স্প্রিং বসানো আছে তা ক্ষয় হচ্ছে প্রতিনিয়ত। প্রতিদিন মাল বোঝাই এই ধরনের ট্রাকের সংখ্যা সহস্রাধিক। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ গত বছর জানিয়েছিল, ৭টি বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সেতু রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে চীনের নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রধান কার্যালয়ের মাধ্যমে পত্র দেয়া হয়েছে। কাজ শুরু হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেওছিলেন কর্মকর্তাবৃন্দ। কিন্তু বাস্তবে ১ বছর পার হয়ে গেলেও সেতু রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি। কাজেই কালক্ষেপণ না করে অচিরেই সংস্কার করে এ সেতুটির স্থায়ীত্ব দীর্ঘ করা জরুরী হয়ে পড়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ
এই বিভাগের আরো খবর